ইসলাম ও পাশ্চাত্যঃ পুনরায় মুখোমুখি? (পর্ব-১)

পশ্চিমা নব্য সাম্রাজ্যবাদের ভাবধারাকে বা ইউরো-আমেরিকান সামন্তবাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে যদি আমরা ধর্মের প্রতি একবারেই অসহিষ্ণু বলে আখ্যায়িত করি, তবে বোধ করি সুবিচার করা হবে না। ধর্মের দর্শন বা বৌদ্ধ ধর্মের মত বিষয়ে, সবচেয়ে আলোকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও বরং, অনেক সময়েই, এক ধরনের সামাজিক আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যেতে পারে।

নিজের চাকুরী বা জীবনের ঝুঁকি না নিয়েই, আজকাল ইউরোপে বা আমেরিকায়, কেউ কোন হিন্দু গুরুর শিষ্য হতে পারে অথবা আদিবাসী Red Indian দের Shaman যাদু বিদ্যার অনুশীলন করতে পারে। খৃষ্টান বিজ্ঞানীরা যেমন মনে করে থাকেন- যতক্ষণ পর্যন্ত ধর্ম-কর্ম ব্যবসা বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি কোন হুমকির কারণ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তা নিরীহ-বড় জোড় ধর্মের আচার-আচরণকে সেকেলে বা অসংলগ্ন বলা যেতে পারে। কোন বর্ণাঢ্য রুপকথার মতই, সাধারণতঃ ধর্মের সাথে কারো যোগাযোগকে এক ব্যক্তিগত ব্যাপার হিসেবে দেখা হয়। এক কথায় বলতে গেলে, মানুষজন Aquarian যুগের বেসরকারী মতবাদ অনুসরণ করে থাকে; যেখানে সবকিছুই চলে-কেবল যদি ধর্মটা ইসলাম না হয়। আসলে, ইসলামই হচ্ছে একমাত্র ধর্ম যা সৎ- সহিষ্ণুতা বা “চলেছে তো চলুক” এ ধরনের মনোভাবকে গ্রহণ করতে পারে না বা তা নিয়ে নিশ্চিন্তে বসেও থাকতে পারে না।

এই ধরনের একটা উদ্ভট  পরিস্থিতির পেছনে জটিল কারণ রয়েছে। খুঁজতে গেলে কিছু কারণের মূল ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের খৃষ্টান মুসলিম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এবং এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রাধান্য বিস্তারের সংঘাতের মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে।

ঐতিহাসিকভাবে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে খৃষ্টানদের মনে যে শত্রুতা রয়েছে, তার মূলে রয়েছে এই ধারণা যে, মুহাম্মদ (দঃ) একজন ভন্ড ছিলেন। খৃষ্টানদের চোখে মুসলমানদের শত্রু হিসেবে দেখার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। তবে এমন মনে করার ব্যাপারটা আমরা সহজেই বুঝতে পারি- ইতিহাসের সব সময়েই সেটা দেখা গেছে, একটা সম্প্রদায় তার নিজস্ব ধ্যান-ধারণাকে সঠিক মনে করে সেটাই আঁকড়ে ধরে থাকতে চায়- ঠিক যেমনটি যীশুখৃষ্টের আগমন সত্ত্বেও ইহুদিরা মূসা (আঃ) কর্তৃক প্রচারিত তাদের পুরাতন ধর্মবিশ্বাসে অটল থাকে। (ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে কি আবু সুফিয়ান এবং তার সতীর্থ মক্কাবাসীর এই একই যুক্তি ছিল না ? )

কিন্তু “ঈশ্বরের পুত্র যীশু” ক্রুশে আত্মহুতি দিয়ে মানবকুলের জন্য নাজাতের পথ তৈরী করার ছয় শতাব্দী পরে, একটা নতুন ধর্মের জন্মটা কেবল একটা প্ররোচনা বলেই গন্য হয়নি বরং একটা অপমানজনক ব্যাপারও মনে  হয়েছে। মুসলমানদের অবশ্য এই ধরনের প্রতিক্রিয়ার কারণ বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কেননা, তারাও তাদের নবীকে শেষ আসমানী কিতাবের বাহক মনে করে (৫:৩) এবং পূর্ববর্তী সব  কিতাবের শেষের মোহর বা বন্ধনী (Al Khatim) বলে মনে করে থাকে; মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং নবীকুলের মোহর (৩৩:৪০), তাই Druze বা Bahai গনের কাছে পরবর্তীতে আল্লাহর কাছ থেকে দিক-নির্দেশনা এসেছে, একথা শুনলে মুসলিমদের মাঝে যে প্রতিক্রিয়া হয়, তা অনেকটা তাদের ব্যাপারে খৃষ্টানদের প্রতিক্রিয়ার সদৃশ্য।

ক্রমবর্ধমান খৃষ্টান-বৈরীতার আরেকটি ঐতিহাসিক কারণ হচ্ছে খৃষ্টানদের এই অনুমান যে, ইসলাম হচ্ছে মারমুখী এবং যুদ্ধপিপাসু ধর্ম যার বিস্তৃতি মূলতঃ ঘটেছিলো সামরিক অভিযানের মাধ্যমে, আর তাছাড়া, যে অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে ইসলামের প্রসার ঘটেছলি, তাই বা কি করে ব্যাখ্যা করা যায় ? Hijaz থেকে উদ্ভুত ইসলাম ৬৬৮ সালে Constantinople, ৭১০ সালে ভারত এবং ৭৩৩ সালে মধ্য ফ্রান্সে বিস্তার লাভ করেছিল। আসলে খৃষ্টান জগত এই সত্যটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি যে, ইসলাম ঐ সমস্ত জনপদে এক ত্রাণকারী হিসেবে এসেছিল। সিজার ও পোপের চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম কানুন তথা Nicaea কাউন্সিলের ঘোষণা [যা ভিন্নমতালম্বী  খৃষ্টানদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল] ইত্যাদির ভারে জর্জরিত জনমানুষ যে অসহ্য জীবন যাপন করেছিল, সেই পটভূমিতে তারা ইসলামের জীবন দর্শনকে স্বাগতঃ জানিয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই ধর্ম বিশ্বাসই অনুশীলন করে যাচ্ছিল। যীশুখৃষ্ট ঈশ্বরের পুত্র নন- ইসলামের এই মতবাদ তাদের মনে ধরেছিল, আর তারা যে ভাবে বিভিন্ন চার্চ ত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছিল, তাকে এক গণ-আন্দোলন বলেই অভিহিত করা যায়।

এছাড়া, কিভাবেই বা হাতে গোনা কিছু সেকেলে আরব বিভিন সাম্রাজ্য জয় করেছিল? মুখ রক্ষা করতে গিয়ে, তা আজও খৃষ্টান জগত স্বরচিত কাহিনী আঁকড়ে ধরে আছে যে, “ইসলামের প্রসার ঘটেছিল আগুন ও তরবারীর মাধ্যমে” ।১

খৃষ্টানদের আরেকটি স্ব-উদ্ভূত প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এই অপবাদ যে, মুহাম্মদ (সাঃ) একজন ভন্ড ছিলেন যিনি যীশুখৃষ্টের শিক্ষাসমূহ (ভুল ভাবে) নকল করে সংকলিত করেছিলেন। উপরন্তু, তাঁর ধর্মের প্রতি জনমানুষের আকৃষ্ট হবার নেপথ্যে রয়েছে যৌনতার প্রতি একধরনের প্রশ্রয়- এটাও এক ধরনের খৃষ্টান কল্পকাহিনী-ইসলাম চার জন স্ত্রীর সাথে ঘর করার অনুমতি দেয়। আর এর নবী ছিলেন একজন লম্পট-যাকে পরবর্তীতে “Mahound”  বলে ডাকবে খৃষ্টানরা (এবং Salman Rushdie এখনো তাই ডাকছে)। এভাবেই, ইসলামের প্রতি বৈরীভাব, ইউরোপীয় মনোবৃত্তির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাড়াঁয় । এভাবেই, ভ্রান্ত ধারণা থেকে জন্ম নেওয়া একধরনের বিস্ফোরক আবেগের ফলশ্রতিতে জঙ্গী “Sprit of Crusades” বা ক্রুসেডের অনুপ্রেরণার সূত্রপাত- যা থেকে শেষ পর্যন্ত আধুনিক ইউরোপের জন্ম হয়।

খৃষ্টধর্মের প্রতিটি মহান আদর্শ ও স্বতঃসিদ্ধকে পদদলিত করে, ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের প্রথম বহিঃপ্রকাশ। যে তথাকথিত ক্রুসেডের মাধ্যমে ঘটেছিল-ক্রুসেডের এই অবহেলিত দিকটি আজ আর আমাদের আগ্রহের সৃষ্টি করে না।২ আজও পর্যন্ত, মুসলমানদের স্মৃতিতে ক্রুসেডসমূহের ক্রসের ছবিই জীবন্ত হয়ে আছে।

কিন্তু ক্রুসেড পরবর্তী প্রতিক্রিয়াসমূহের মাঝে, এই আবেগপ্রবণ ঐতিহ্যের চেয়েও, আসন্ন সময়ের জন্য অধিকতর বিপজ্জনক বা ক্ষতিকর আরও কিছু প্রতিক্রিয়া ছিল- তা ছিল খৃষ্টান সমর-নায়কদের Cultural Shock-এর অভিজ্ঞতা- যখন তারা নিজেদের মনগড়া বর্বর “Saracen” দের পরিবর্তে, নিজেদের চেয়ে উন্নততর এক সভ্যতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। অনেক খৃষ্টান সমর-নায়কের কাছেই পবিত্র ভূমির স্মৃতি বা অভিজ্ঞতা বেশ বিব্রতকর ছিল- তখনকার “প্রকৃত বর্বর” ইউরোপের কাছে অজানা এক পরিশোধিত এবং পরীশীলিত জীবনধরণ, শিক্ষার হার, চিকিৎসা বিজ্ঞান আর কুর্দী বীর সালাহউদ্দিনের চরিত্রে সমন্বিত বীরত্ব, করুণা ও সহিষ্ণুতা ইত্যাদির স্মৃতি তাদের কাছে পীড়াদায়ক ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের পুণ্যভূমিতে দেখে যাওয়া সভ্যতা ছিল অনেকটা মুসলিম Andalusia –র সভ্যতার মতই, যা তাদের খৃষ্টান প্রতিপক্ষকে লজ্জিত ও সঙ্কুচিত করেছিল এমন বোধ দিয়ে যে, যদি কেউ তখন বর্বর থেকে থাকে তবে তা মুসলমানরা নয় বরং ক্রুসেড লড়তে আসা খৃষ্টানরাই।

ইউরোপীয়রা আজও এবং এখনো যে ইসলামকে ভয় করে, তার মূলে রয়েছে ঐ সমস্ত অভিজ্ঞতা-আর এই ভীতি চূড়ান্ত রুপ ধারণ করেছিল ১৫২৯ এবং ১৬৮৩ সালে, যখন তুর্কীরা Vienna অবরোধ করেছিল।

ক্রসেডের অনুপ্রেরণা খৃষ্টান হৃদয় থেকে মুছে গিয়েছে বা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছ, এমন বিশ্বাস করাটা এক বিপজ্জনক কল্পনা বিলাস ছাড়া কিছুই নয়।এই তো ১৪৬৩ সালেও, সুলতান Mehmet – 2 Fatih –এর কাছে Constantinople এর পতনের পর প্রতিক্রিয়া দেখাতে, ঘটনার দশ বৎসর পরে Pope Pius 2, তুর্কী Ottoman দের বিরুদ্ধে ক্রুসেডের ডাক দিয়েছিলেন।

তদুপরি, ১৪৯২ সালের পরে, মুসলিম স্পেনের পুনরুদ্ধার প্রকল্পে, সেখান থেকে সমগ্র ইহুদি এবং মুসলমান জনসংখ্যাকে বহিষ্কার করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সেই সঙ্গে স্প্যানিশরা (খৃষ্টান) ভূমধ্য সাগরের পশ্চিম তীরে উত্তর আফ্রিকার উপকূলসমূহে দখল  করার চেষ্টা করে এবং সেই সুত্রে Algiers, Ovan, Mellila, Ceuta তে সামরিক ঘাঁটি  স্থাপন করে।

ষোড়শ শতাব্দীতে, স্প্যানিশদের অনুকরণে, পর্তুগীজরাও মরক্কোর আটলান্টিক উপকূল দখল করার চেষ্টা চালায়। Azila, Larache, El-jadida, Safi এবং Es-Saouira –য় তাই তাদের ঘাঁটি দেখতে পাওয়া যেত। ১৫৭৮ সালে তরুণ পর্তুগীজ রাজা Sebastiao মরক্কোকে পুরনরায় খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত করার একান্ত চেষ্টা চালিয়েছিলেন। “Ksar el-Kebir এর কাছে ” Battle of the three kings  বা তথাকথিত “তিন রাজার যুদ্ধে” পরাজয়ের মাধ্যমে পর্তুগীজ রাজার ক্রুসেডের সমাপ্তি ঘটে, আর সেই সঙ্গে তাঁর এবং তাঁর রাজ্যের কাছে উত্তর আফ্রিকার উপনিবেশ বা দখলকৃত ভূমি হারায়।৩

মুসলিম জগতের প্রতি খৃষ্টানদের এই দৃষ্টিভঙ্গীর ধারাবাহিকতায়ই বৃটিশ, ফরাসী, ইতালীয়, ওলন্দাজ এবং রুশীয় ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ কর্তৃক, উনবিংশ শতাব্দীতে, প্রায় সমগ্র মুসলিম জগতকেই উপনিবেশে পরিণত করা হয়। Maghrib বা পশ্চিমের Berber জনগোষ্ঠীকে পুনরায় খৃষ্টান বানানোর উদ্দেশ্যে, অধিকৃত তিউনিসে, The white fathers  নামের বিশেষ মিশনারী প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব হয়। ক্রুসেডাররা যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের Frankish  রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং তা পরিচালনা করেছিল, এর সাথে বৃটিশরা আমাদের এই শতাব্দীতে (বিংশ) প্যালেস্টাইনকে ইহুদিদের কাছে হস্তান্তর করেছে তার কি বিশেষ কোন পার্থক্য আছে? আসলে এই সব  কিছুই মুসলিম বিদ্বেষের এক ধারাবাহিকতার সাক্ষ্য দেয়।

এই পটভূমি সম্পর্কে সচেতন থেকে যখন কেউ স্মরণ করবেন যে Anatolia পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে ১৯২২ সালে গ্রীক রাজা  Constantinople বা তার সেনাবাহিনী তুর্কী জমিনে পা রাখেন নি, বরং পা রেখেছিল নিকটবর্তী এমন এক ভূমিতে যেখানে (সিংহহৃদয়) ইংরেজ রাজা Richard 1, তার ক্রুসেডের সময় অবতরণ করেছিলেন-যেখানে ১৯৯০ সালে তৃতীয় ক্রুসেড---; তখন আশ্চর্য্য হবার কোন কারণ থাকবে না।

বসনিয়াতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সার্বিয়াদের ধ্বংসযজ্ঞকে তাই, সার্বিয় এবং গ্রীক সংবাদ মাধ্যম উভয়েই ক্রুসেড আখ্যায়িত করে স্বাগত জানিয়েছে এই বলে যে, এই ধর্মযুদ্ধের মাধ্যমে অতঃপর ইউরোপের মাটি থেকে শেষ মুসলিমকে উৎখাত করা যাবে।

অবিশ্বস্য হলেও সত্যিঃ  “পৃথিবীর মঞ্চে ধর্মীয় যুদ্ধের পুনরুত্থান ঘটেছে ”।৪

আর বসনিয়াই এর শেষ নয়, তবে সর্ব সাম্প্রতিক ক্রুসেড। মানুষজন আবারো একে অপরকে জিজ্ঞেস করে থাকে, “ইশ্বর কাদের পক্ষে রয়েছেন?” বাস্তব কথা হচ্ছে এই যে, ক্রুসেড যুগের সমাপ্তি কখনোই ঘটেনি।

References

    Typical of this type of disinformation is Willy Dietl’s “Heiliger Krieg fur Allah”,(Munich:1983)
    Amin Maalouf, Les Croisades vues par les Arabes(Paris:1983)
    Hean Brignon et al., Histoire du Maroc (Casablanca: 1967), 196.209-210.
    Karen, Armstrong, Holy War: The Crusades and Their Impact on Today’s World (New York: 1988).

 সূত্রঃ বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লিঃ প্রকাশিত “ইসলাম ২০০০” গ্রন্থ

দ্বিতীয় পর্বঃ ইসলাম ও পাশ্চাত্যঃ পুনরায় মুখোমুখি?

৫১৫

বার পঠিত

মুরাদ উইলফ্রেড হফম্যান

মুরাদ উইলফ্রেড হফম্যান-এর জন্ম হয়েছিল ১৯৩১ সালের ৬ই জুলাই, জার্মানীর Aschaffenburg-এর এক ক্যাথলিক পরিবারে- যেখানে তিনি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বছরগুলো কাটিয়েছেন এবং “কৌশলগত বোমাবর্ষণ” তথা সামরিক দখলের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৫০ সালে, New York-এর Schenectady-তে Union Collage-এ ১৯৫৭ সালে Munich University থেকে আইনের পারদর্শিতার উপর একটা ডক্টরেট ডিগ্রী এবং বার-এর পরীক্ষার মাধ্যমে, তিনি জর্মান আইনের উপর তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার সমাপ্তি টানেন এর পর পর আমেরিকার আইনের উপর পড়াশোনা করতে গিয়ে, ১৯৬০ সালে তিনি প্রখ্যাত Harvard Law School থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন

১৯৬১-১৯৯৪ সময়কালে তিনি জার্মান পররাষ্ট্র বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং পারমাণবিক প্রতিরক্ষার বিষয়াবলীর একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন এছাড়াও তিনি Brussels-এ (১৯৮৩-৮৭)NATO- এর তথ্য পরিচালক হিসেবে, আলজেরিয়ায় (১৯৮৭-৯০) এবং মরোক্কোয় (১৯৯০-১৯৯৪) জার্মান রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন

১৯৮০ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, ১৯৮২-তে উমরাহ্ পালন করেন এবং ১৯৯২-তে তিনি হজ্ব করেন ১৯৮৫-তে তিনি Diary of a German Muslim-এর জার্মান সংস্করণ প্রকাশ করেন, যা কিনা আরবী, ইংরেজী ও ফরাসী ভাষায়ও পাওয়া যায়

১৯৯২ সালে তাঁর লেখা বই Islam the Alternative যখন জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হয়, তখন গণ-মানুষ পর্যায়ে একটা হৈচৈ পড়ে যায় জার্মান গণ-মাধ্যম তথা সংসদে, বামপন্থী ও নারীবাদীরা তাকে “মৌলবাদী” বলে আখ্যায়িত করে তাঁর বিরুদ্ধে জঘন্য প্রচারণা ও আক্রমণ চালায় এই বইখানাও আরবী ও ইংরেজী ভাষায় পাওয়া যায় এছাড়া Voyage to Makkah বইখানির প্রকাশনা ১৯৯৬ সালের গোড়ার দিকে নির্ধারিত

তাঁর পরলোকগত প্রথম (আমেরিকান) স্ত্রীর পক্ষ থেকে, জনাব হফম্যান-এর একজন পুত্র সন্তান রয়েছে অবসর গ্রহণের পর, তিনি তাঁর তুর্কী স্ত্রীর সাথে ইস্তাম্বুল-এ বসবাস করছেন