বৈধ সহিংসতা

সহিংসতাকে ধর্মীয় বক্তব্য ও ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা হয় এবং আধুনিকতা বিরোধী মনে করা হয় - প্রচলিত এই ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে আমাদের ভুলে যাওয়া চলবে না যে, এই সহিংসতাকারী দলগুলো আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতিরাষ্ট্র নিজেই একচেটিয়াভাবে বৈধ সহিংসতার কতৃত্ব গ্রহণ করার চেষ্টা করেন। অবশ্য বৈধ সহিংসতার ধারণা মৌলিকভাবে আইনি সূত্রকাঠামোতে ফিরে যায় যেটি জনপ্রতিনিধি রাষ্ট্র-ক্ষমতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেয়া প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনতার অংশবিশেষের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইচ্ছা্র প্রতিনিধিত্ব করে। এখান থেকেই মূলত সহিংসতা এই বিশেষ বৈধতা লাভ করে কেননা এটি সম্মিলিত ইচ্ছা ও প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সমর্থিত। এখানে বৈধ বলতে বেঁধে দেয়া কিছু মাপকাঠি বোঝানো হচ্ছে যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ইচ্ছা ও একচেটিয়া সহিংসতা প্রয়োগ করা হয় আইনি ক্ষমতার দোহাইয়ে, এর বাইরে গিয়ে নয়। অর্থাৎ বৈধ সহিংসতার একচেটিয়া কর্তৃত্ব গ্রহণ করা হয় সম্মিলিত স্বার্থ রক্ষার জন্যেই। এই  বৈধতা গৃহীত হয় নানান ভিত্তি থেকে যেগুলো রাষ্ট্রের ধারণা, তার প্রকৃতি, ও কাঠামোর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ফলে, ঠিক এই জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে, ‘বৈধ সহিংসতা’ ও রাষ্ট্র-ধারণা - এ দুটোকে আলাদা করে বিচার করা সম্ভব নয়।

আর “আমাদের রাষ্ট্র” যেহেতু ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোর কাতারে, সম্মিলিত ইচ্ছা ও নাগরিকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না, গণমানুষের ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত স্বার্থের দিকে লক্ষ্য রাখে না, সেহেতু, ‘বৈধ সহিংসতার’ উপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া কর্তৃত্বের ধারণা সাধারণ সহিংসতায় পরিণত হয়ে যায় যা কোন মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে দায়বদ্ধ থাকে না। অর্থাৎ রাষ্ট্রের কর্তৃত্বগ্রহণকারী ব্যবস্থা হতে প্রণয়ন হয়েছে - এটি ব্যতিত এই বৈধতার আর কোন ভিত্তি থাকে না। এভাবেই রাষ্ট্র নিছক একটি দমনের মাধ্যম হয়ে উঠে। এভাবেই এর কর্তৃত্বকামী ইচ্ছাবিরোধী যে কোন ধরণের সক্রিয়তাই “অবৈধ সহিংসতা” হয়ে উঠে। যুক্তি হচ্ছে, রাষ্ট্রই একমাত্র বৈধ সহিংসতার অধিকারী, এবং এটাই একমাত্র নৈতিক বৈধতা দিতে পারে; ফলে কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ, এটা  রাষ্ট্রই ঠিক করে দিবে।

একচেটিয়াভাবে ‘বৈধ সহিংসতার’ অধিকার গ্রহণ চিন্তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে এই ধারণা যে, ব্যক্তিগত স্বার্থের ভিন্নতা ও পারস্পরিক  হস্তক্ষেপের কারণে মানুষের সম্পর্ক মূলত যুদ্ধ ও সংঘর্ষনির্ভর। এখান থেকেই এমন একটা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার  বৈধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রাকৃতিক (স্বভাবজাত) সহিংসতার একচেটিয়া কর্তৃত্ব গ্রহণের সুযোগ পাবে যাতে সমাজ ও সামাজিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সেই সহিংসতা কমানো যায়। অতএব সহিংসতার বৈধতা খোদ রাষ্ট্রের বৈধতা ও রাষ্ট্রের জনস্বার্থে নিয়োজিত থাকার শর্তেই সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রের সহিংসতা মাত্রই বৈধ, বিষয়টি আদৌ এমন নয়। চাই তাকে বৈধ বলা হোক বা নাই বলা হোক। চাই সে রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে জড়িত হোক বা নাই হোক। তো রাষ্ট্রের বৈধতাহীনতা রাষ্ট্রীয় সহিংসতাকে অবৈধ সহিংসতায় রুপান্তরিত করে।

এ কারণেই সহিংসতার আলোচনা বা এর বাস্তবতাকে বোঝার জন্য রাষ্ট্রের বৈধতার আলোচনাবিচ্ছিন্ন কিছু হওয়া সম্ভব নয়। কোন প্রতিষ্ঠানের নীতি ও সক্রিয়তা শর্তহীনভাবে  নৈতিক বৈধতা লাভ করে না। এর জন্য প্রথমত খোদ সেই প্রতিষ্ঠানের বৈধতা লাভ করতে হয়। দ্বিতীয়ত তার সক্রিয়তার প্রকৃতির বৈধতা লাভ করতে হয় এবং তাকে গণইচ্ছার প্রতিনিধিত্বকারী নীতিমালা ও মাপকাঠি মেনে চলতে হয়। এই বৈধতা ও নীতিমালার অনুসরণ না থাকলে আমরা সহিংসতা ও প্রতি সহিংসতা দেখতে পাই, যারা উভয়েই বৈধতার ঠিকাদারী দাবী করে। এবং এতে সবচে বেশী ক্ষতির শিকার হয় জনগণ, যারা যৌথ সহিংসতার বলিতে পরিণত হয়।

তবে ভিত্তি (মাকসাদ) ও মাধ্যমের (ওয়াসীলা) মধ্যে এই সম্পর্ক সৃষ্টি বা ক্ষমতার বৈধতা ও তার সক্রিয়তার বৈধতাকে সম্পর্কিত করে তোলা – এ দুটি সম্পর্কে ইসলামী ইতিহাসে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারীদের বৈধতা দানের ফলে যে নিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা জরুরী। যারা  জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের বৈধতা দিয়েছেন, তারা গণস্বার্থ ও ক্ষতি (মাসালেহ ও মাফাসেদ) এর মধ্যে নতুন সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। শেষপর্যন্ত তারা ঐতিহাসিক পরিসরে ক্ষমতা দখলকেই মুসলমানদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রে বৈধতার ভিত্তি আখ্যায়িত করেছেন। এই ক্ষমতা দখলকারীর প্রতি সন্তুষ্টি ও স্বীকৃতি হাছেল হবার মাধ্যমে কর্তৃত্ব পোক্ত হয়ে গেছে ও মানুষ অনুগত হয়ে গেছে। অর্থাৎ জোর প্রয়োগের অবস্থা থেকে জনসাধারণের সন্তুষ্টি ও স্বীকৃতির অবস্থায় রুপান্তরিত হয়েছে। আবার পরাক্রমশালী ক্ষমতার মোকাবেলা, যে ক্ষমতার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী কর্তৃত্ব পেয়েছে এবং জনগণ স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে, সেটাও রক্তক্ষয় ও বিশৃঙ্খলার আশংকার সাথে যুক্ত।

তবে এই বক্তব্য ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা ব্যতীত সাধারণভাবে সক্রিয়তার বৈধতায় সীমিত ছিল না। অর্থাৎ সে সময় জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের বৈধকরণের জরুরত ছিল এবং ব্যতিক্রমী ছিল। এই জরুরত একটা বিশেষ বাস্তবতার সাপেক্ষে ছিল। ফলে এটা নীতিগতভাবে বৈধ হতে পারেনা। বিশেষত কালিক প্রেক্ষাপটের বিভিন্নতায় কাজের নৈতিকতা বিবেচনায় পার্থক্য আসে। ঘটনা ঘটার আগে ও পরের ব্যাখ্যায় পার্থক্য আসে। তারা ঐ সময়ে যেসব স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন, তার মধ্যে ক্ষমতা দখলকারী শাসকের গণস্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব পালন অন্যতম একটি। তার (জোরপূর্বক) ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে (শুধু) মুসলিম ভূখণ্ড ও উম্মাহের ঐক্য রক্ষার উদ্দেশ্য মাথায় রেখে। তো মাধ্যম বা ওয়াসীলা হাজির না থাকলেও অন্তত ভিত্তি রক্ষা হোক - এটাই ছিল তাদের সমীকরণ। অর্থাৎ ক্ষমতা (জোরপূর্বক) দখল বৈধতা পেয়েছে উপকার দানকারী স্বার্থ (মাসালেহ-মাফাসেদ ) ও ভবিষ্যৎ বিচার (আগমনী পরিণাম) এর ভিত্তিতেই। তো ঐ সময়ের ফুকাহাগণ ক্ষমতা হাসীলের মাধ্যম (ওয়াসীল) নিয়ে নমনীয় ছিলেন এবং মৌলিক ভিত্তি ও নীতি রক্ষার জন্য অপেক্ষাকৃত কম মন্দের বৈধতা দিয়েছেন।

এই নৈতিক সমীকরণ ও তার নানামুখী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথে সাথে মনে রাখা জরুরী যে, ঐতিহাসিক (মুসলিম) রাষ্ট্রের ক্ষমতা, তার কর্তৃত্ব এবং ও নিয়ন্ত্রণ-দমনের প্রক্রিয়ার সাথে আধুনিক রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর কোন তুলনা হতে পারে না। কেননা ঐতিহাসিক রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সীমা সীমিত ছিল। রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পর্কও অন্যরকম ছিল। ঐতিহ্যবাহী এর কারণ হল, সমাজের গঠন ও কাঠামো  রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিসরের বাহিরে থাকা। (সমাজের নানা অংশ, যেমনঃ পেশা ও শিল্পজীবিসহ ইত্যাদি। আওকাফ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অংশগুলো।) একিভাবে ঐতিহাসিক রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থাপনা ও হস্তক্ষেপের হাত এত ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী ছিলো না যে প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগতজীবনের বিস্তারিত অংশ নথিভুক্ত হবে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নাম নিবন্ধনের মাধ্যমে, সবার নিরাপত্তা প্রোফাইল তৈরির মাধ্যমে। এছাড়াও ঐ সময়ের চিন্তা-প্রক্রিয়া,  মনোনিবেশ-ব্যাতিব্যস্ততা এবং সমস্যাদি এক ছিল না।

বর্তমানের দমনমূলক স্বৈরাচারী রাষ্ট্র ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রের মধ্যে তুলনা করাতেই সমস্যা আছে। বর্তমানের স্বৈরাচারী রাষ্ট্রগুলো ওয়াওসীলার বৈধতা, ভিত্তি ও লক্ষ্যের বৈধতা, এবং দায়-দায়িত্বের বৈধতা - সব হারিয়েছে; এবং ব্যাপক কর্তৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ-দমনের অধিকারী হয়েছে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রযুক্তির সহযোগিতায়। এসব কিছু সত্ত্বেও সে তার দমনমূলক ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চায় আধুনিক রাষ্ট্রের বৈধ সহিংসতার আরোপিত বৈধতার মাধ্যমে। তো এতে সঙ্কট ঘনীভূত হয়; তার মোকাবেলায় অনেক দল দাড়িয়ে যায়। ফলে জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। এভাবে আমরা একটি যৌথ সহিংসতার সামনে চলে যাই। অর্থাৎ এহেন রাষ্ট্রকে ঐতিহ্য, ইতিহাস বা ধর্মীয় বক্তব্যের দিকে সমন্ধিত করার অর্থ  স্বৈরাচারের সাহায্য করার নামান্তর, তার নীতি ও লক্ষ্যহীন অবৈধ সহিংসতার সমর্থন প্রদান এবং উল্লেখিত চিন্তাগত সমীকরণ ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ব্যাপারট বোঝার অক্ষমতা।

ক্ষমতার পক্ষের বুদ্ধিজীবিরা নৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়, যখন তারা “রাষ্ট্রই একমাত্র বৈধ সহিংসতার একচেটিয়া অধিকারী” এই তত্ত্বটি বলার চেষ্টা করে, স্বৈরাচারী ব্যবস্থাগুলোর সমর্থন যোগানোর চেষ্টা করে এবং বৈধতার প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্র ও ব্যবস্থার মুখোমুখিতে দাড়ানো তথাকথিত বিদ্রোহকারী বিরোধীদের নিন্দা জানায়। কেননা তারা বিষয়টাকে তার প্রেক্ষাপট ও মূল থেকে আলাদা করে ফেলে। তেমনি ক্ষমতার পক্ষের মুফতিও নৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়, যখন সে ঐতিহাসিক শাসকের আনুগত্যের নীতির মাধ্যমে মানুষকে ধর্মীয় যুক্তিতে আধুনিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধীন করতে চায়, যে রাষ্ট্র নিজেই মাধ্যম (ওয়াসীলা), দায়িত্ব ও লক্ষ্যের (মাকসাদ) বৈধতা হারিয়ে ফেলেছে। (আর তাছাড়া জনগণকে অনুপস্থিত করে দেওয়া হয়েছে এবং এই জনমতের শক্তিশালী মাপকাঠিও নেই।)

দেখা যাচ্ছে, সহিংসতাকারী দলগুলো উপর্যুক্ত প্রেক্ষাপটেই সৃষ্টি হয়েছে। স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের কল্পনায় প্ররোচিত হয়ে ও তার চিন্তার প্রকাশ হিসেবে স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের মোকাবিলায় সৃষ্টি হয়েছে। তো উভয় পক্ষের মধ্যে বৈধ সহিংসতার একচেটিয়া কর্তৃত্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং আইন প্রণয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছ জনগণ, তার স্বার্থ ও ভিত্তিগত লক্ষ্যের  অনুপস্থিতিতেই। এ কারণেই  রাজনীতি বিশ্লেষক অলিভার রয় যে আল কায়দা ও তার সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে ‘ধর্মীয় সন্ত্রাস’ শিরোনামে বিশ্বায়ন বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং যে বলেছেন, “মুসলিম বিশ্বে সামগ্রিক ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থাই যুবকদেরকে সহিংসতা ও বিস্ফোরণে উদ্বুদ্ধ করেছে” - তাতে অবাক হবার কিছু নেই। তেমনি জন বদ্রিয়ার  মনে করেন কর্তৃত্বমূলক বিশ্বব্যবস্থার জন্য অপরিহার্যভাবে কোন সন্ত্রাস থাকা জরুরী, যাতে সে তার সক্রিয়তা ও নিয়ন্ত্রণ জারি রাখতে পারে। কেননা সন্ত্রাস ব্যতীত এই ব্যবস্থা ভেঙ্গে যাবে। অর্থাৎ এভাবে দুই শত্রুর মধ্যে গভীর ঐক্য সৃষ্টি হয়, যার মাধ্যমে তারা একে অপরকে (উপযোগিতায়) ব্যবহার করে। অতএব কর্তৃত্বমূলক ব্যবস্থা নিজেই নিজের (বিরোধীদের) বিরোধিতাকে অবলম্বন করে চলে, নিজেই সহিংসতার জন্ম দেয়। তো এই অনৈতিক ব্যবস্থাও তাই অনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দেয় যা নিজেও অনৈতিক। অর্থাৎ আমরা এখানে নৈতিক ভিত্তিসম্পন্ন ও জনগণের স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী বৈধ সহিংসতার অনুপস্থিতির কথাই বলছি।

এতোসব কথার পর স্পষ্ট হবে যে,  কীভাবে ‘সন্ত্রাসের খেল’ চলমান, অথচ এর বিরুদ্ধে সবাই যুদ্ধ করছে। আবার একই সময়ে সবাই একে অপরকে সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত করে যাচ্ছে। বস্তুত “সন্ত্রাসের” ধারণা নির্ধারিত নয়; এবং একে নির্ধারিত হতে দেওয়াও হবে না। কেননা এর শক্তিই অস্পষ্টতা ও বহু-অর্থে ব্যবহারের মধ্যে (মেনিপুলেশন)। এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ হয় (প্রায়) সকল অপশন, সময় ও মানবগোষ্ঠির বিপরীতে এর প্রায়োগিকতার সামর্থ্যের মধ্য দিয়ে। এটা নাইন ইলেভেনের পরবর্তী রাজনীতির অনুপস্থিতি বা রাজনীতি সীমিতকরণের স্পষ্ট দলীল। নতুন করে সন্ত্রাস উৎপাদনের অর্থই হচ্ছে, রাজনীতিকে অস্বীকার, দমনের প্রসার ও যে কোন ধরণের বিরোধিতাকে অস্বীকৃতি জানানো। এ কারণেই সন্ত্রাস পরিভাষাটি তার নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছে তার অপব্যবহার ও অস্পষ্টতার কারণে, যে ভিত্তি তার নিজেই পরিষ্কার করে বলার কথা। । এভাবে এটি একটি অগুরুত্বপূর্ণ চালের গুটিতে রুপান্তরিত হয়েছে, যা অতিরিক্ত আপেক্ষিক এবং স্বার্থ, স্থান ও কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে যার মধ্যে পরিবর্তন ঘটতেই থাকে।

সূত্রঃ আল-জাজিরা

২২৫

বার পঠিত

মু'তাজ আল খাতিব

মু'তাজ আল খাতিব বর্তমানে হামাদ বিন খলীফা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেথডলজি ও এথিক্সের এসিসট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন। উম্মু দারমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইসলামী শরীয়ায় এবং আল আযহার হতে আরবী ভাষাতত্ত্বে স্নাতক সম্পূর্ণ করেন। উলুমুল হাদীসে মাস্টার্স সম্পাদন শেষে একি বিষয়ে ২০১১ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তাঁর থিসিস ছিলো "হাদীসের মতন প্রত্যাখানঃ উসুলবীদ ও মুহাদ্দিসদের পদ্ধতির তুলনামূলক পাঠ"। আধুনিক পড়াশোনা বাদেও শায়খ আবু গুদ্দাহের মতো অসংখ্য প্রখ্যাত ‘আলিমদের ইজাযা লাভ করেন। তিনি আল-জাজিরার জনপ্রিয় প্রোগ্রাম "শরীয়া ও জীবন"-এ উপস্থাপনা (২০০৪-২০১৩) করতেন। পাশাপাশি IslamOnline.net এর "ইসলাম ও সমসাময়িক বিষয়" বিভাগের এডিটর-ইন-চিফ (২০০৩-২০০৮) ছিলেন। বার্লিন, কাতার, মালয়েশিয়া, আমেরিকা, লেবানন, উত্তর আফ্রিকাসহ অনেক জায়গায় গবেষনা ও শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইসমূহঃ

১)  বৈধ সহিংসতাঃ উম্মত ও রাষ্ট্রের মোকাবেলায় শরীয়তের অবস্থান

২) হাদীস গ্রহনঃ উসুলবিদ ও মুহাদ্দিসদের মাঝে তুলনা

৩) লিবেরালবাদী ও ইসলাম্পন্থীদের মাঝে স্থবির হয়ে থাকা রাষ্ট্র

৪) ইউসুফ কারাদাওয়ীঃ চিন্তাপাঠ

৫) সাইয়্যেদ কুতুব ও তাকফীর

৬) ইমাম শুম্মুনীর শরহে নুখবাতুন নজমের ব্যাখ্যা ও সম্পাদনা

৭) সমসাময়িক মুসলিম (গবেষণাপত্র)