All posts by খুররম জাহ্ মুরাদ

উস্তাদ খুররম জাহ্ মুরাদ (১৯৩২-১৯৯৬) ইসলামী পুনর্জাগরণের অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে দা’য়ী, ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মূলতঃ পাকিস্থানী হলেও তিনি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা জুড়ে ইসলামের পুনর্জাগরণ ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি পাকিস্তানের বিখ্যাত “তরজুমানুল কুরআন” ম্যাগাজিনের সম্পাদক ছিলেন ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশন, ইউকে এর ডিরেক্টর জেনারেল ছিলেন। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এই মনীষী ১৯৭৫-১৯৭৬ সালে মক্কার মসজিদ-আল-হারামের সংস্কার প্রকল্পেও জড়িত ছিলেন। উর্দূ এবং ইংরেজীতে তাঁর রচিত পঞ্চাশটিরও অধিক গ্রন্থ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সাইয়েদ আবুল হাসান নদভীর বিখ্যাত Muslims in the West: Message and the Mission গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন। এছাড়াও তাঁর চার’শ এরও অধিক অডিও-ভিডিও লেকচার রয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহঃ বাংলাঃ ১। কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা ২। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক English: 1. Way to the Quran 2. Key to al-Baqarah 3. The Quranic Treasures 4. Islam - The Easy Way 5. Who is Muhammad? 6. Gifts from Muhammad 7. Shariah: The Way to Justice 8. Shari'ah: The Way to God 9. Interpersonal Relations 10. In the Early Hours: Reflections on Spiritual and Self-Development 11. Sacrifice the making of a Muslim 12. Dawah among Non-Muslims in the West 13. Islam & Terrorism 14. The Islamic Movement: Dynamics of Values Power and Change 15. Islamic Movement in the West: Reflections on Some Issues 16. Dying & Living for Allah Urdu: 1. Zikr-e-Ilahi ("Remembrance of God") 2. Rabb se Mulaaqaat ("Meeting with the Lord") 3. Dawat kai Nishan-e-Raah 4. Imaanat Daary ("Honesty") 5. Allah se Muhabbat ("Loving Allah") 6. Hasad aur Bughz ("Jealousy & Envy") 7. Rizq-e-halal ("Lawful Sustenance") 8. Niyyat aur Amal ("Intention & Action") 9. Hubb-e-Dunya ("Love of the World") 10. Dil ki zindagi ("Life of the Heart") 11. Ghalatiyon to Maaf Karna ("Forgiving Mistakes") 12. Haqeeqat-e-Zuhd ("Reality of Piety") 13. Urooj ka Raasta ("The Way to Elevation")
quran_karim_1_by_marh333-d2zz1x2

কুরআন অধ্যয়নের জন্য পাঠক্রম

খুররম জাহ্ মুরাদ | মার্চ ১, ২০১৫
Download PDF

ব্যক্তিগত অধ্যয়ন বা পাঠচক্রের জন্য কুরআনের অনুচ্ছেদসমূহের পাঠক্রমের ধারণা দেয়া একটি খুবই কঠিন কাজ। প্রথমতঃ কি সংযোজন করতে হবে? সমগ্র কুরআন শরীফ থেকে একটি পর্যাপ্ত এবং সন্তোষজনক বাছাই প্রায় অসম্ভব। কুরআনের প্রতিটি অংশে অতিরিক্ত এবং নতুন কিছু না কিছু বক্তব্য রয়েছে। এমনকি বারবার পুনরাবৃত্তি এবং একই ধরনের অনুচ্ছেদসমূহেরও আলাদা কিছু অন্তর্নিহিত ভাবধারা আছে। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক অনুচ্ছেদ কেবল নির্দিষ্ট সংখ্যক ভাবধারাই সংযোজন করতে পারে। অতএব প্রত্যেক সিলেবাসেই অনেক কিছু সমান বা অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাদ পড়ে যাবার ত্রুটি থেকে যাবে। উপরন্তু যে কোন নির্ধারিত এপ্রোচ বিধি বহির্ভূত হবে। কুরআনে নয় বরং শুধু বাছাইকারীর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও পছন্দ অপছন্দের প্রকাশ ঘটবে বা ঘটাই স্বাভাবিক। এখানে যে পাঠক্রম দেয়া হলো, তা ব্যবহারের সময় এ সীমাবদ্ধতাগুলোর কথা স্মরণ রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্পর্কে আপনাকে সজাগ থাকতে হবে যে, যা বাদ রাখা হয়েছে, তাও সমান মূল্যবান এবং আপনি একজন সাধারণ মানুষ, যিনি ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে নন তার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন।

দ্বিতীয়তঃ কোথা থেকে শুরু করতে হবে, কোথায় শেষ করতে হবে এবং কোন্ ধারা অবলম্বন করে অগ্রসর হতে হবে? একমাত্র সন্তোষজনক ধারাবাহিকতা হচ্ছে কুরআনের ধারাবাহিকতা, যেভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু একটি সিলেবাস সেই ধারাবাহিকতার পরিবর্তন এড়াতে পারে না। কোন্ মানদণ্ডের ভিত্তিতে? আবার সেটা অবশ্যই বিধি-বহির্ভূত হবে। যে কোন একটি ধারাবাহিকতা অনেক সময় প্রয়োজনীয় ধারাক্রমের মধ্যে একটি বিকল্প হতে পারে। আপনি এভাবেও অগ্রসর হতে পারেন, প্রথমে কুরআনের মর্যাদাকে আল্লাহর অবতীর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুন। অতঃপর বিশ্বজগতের প্রমাণ গুলোর সাথে পরিচয় করুন। নিজের ব্যক্তিসত্তা ও ইতিহাসের সাথে পরিচিত হওয়া। আল্লাহ, আখিরাত ও রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি বিশ্বাস, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক মর্যাদা, মুসলিম জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ঈমান এবং জিহাদের ডাক, আল্লাহর প্রতি প্রতিশ্রুতি ও শপথ পূরণ করা। অথবা কেউ ইচ্ছা করলে মৌলিক বিশ্বাস থেকে শুরু করতে পারেন। যা আমি এখানে উল্লেখ করেছি, যা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পরিবর্তন হতে পারে। ইসলামের আশীর্বাদ সম্পর্কে পাঠককে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে শুরুতেই। পাঠকের জীবনের লক্ষ্য, আল্লাহর প্রতি তাদের শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। এটা আমার সেই উপলব্ধির উপর ভিত্তি করে আল্লাহ তা‘আলা সূরা আল বাকারায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিমদের প্রতি যেভাবে ভাষণ দিয়েছিলেন।

প্রত্যেক চক্র শুরু হবে একথা আলোচনা করে যে, কিভাবে কুরআন পড়তে ও বুঝতে হয়। এজন্য এই বইটি সহায়ক হওয়া উচিত।

সূরা আল ফাতিহা সম্পর্কে একটি বিশেষ কথা। কুরআন শরীফের মধ্যে এ সূরাটি এক অসাধারণ স্থান দখল করে আছে। কুরআনের অতীব প্রয়োজনীয় অর্থের সবকিছুই এ সূরায় আছে। আপনি প্রতিদিন এটি অনেক বার পড়েন। সুতরাং এটি প্রত্যেক সিলেবাসের অংশ হওয়া উচিত। কিন্তু এর অধ্যয়ন থেকে সত্যিকারের উপকার পেতে হলে একজন শিক্ষানবীসের জন্য একজন ভালো শিক্ষক অথবা তাফসীর গ্রন্থের সাহায্য নেয়া প্রয়োজন হবে। নির্ধারিত অংশের বিনিময়ে হলেও যেখানেই এ ধরনের সাহায্য পাওয়া যাবে এটাকে অবশ্যই সিলেবাসের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

কুরআন মাজীদের শেষ দিকের সংক্ষিপ্ত সূরাসমূহ যা আপনি দৈনন্দিন নামাযে তিলাওয়াত করেন, তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঐসব আয়াত সঠিকভাবে বুঝার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন হবে। সত্যিকার উপায়-উপকরণ যখন পাওয়া যাবে, তখন ঐসব সূরা অধ্যয়ন করতে হবে।

এখানে দুটি সিলেবাস দেয়া হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস যাতে ১২টি অংশ বাছাই করা হয়েছে, তা এক বছরের পাঠচক্র অথবা সংক্ষিপ্ত সময়ের গভীর অধ্যয়নের জন্য। যদি একজন শিক্ষক থাকেন এবং অধ্যয়নের প্রচুর সময় পাওয়া যায়, তাহলে সেটা ১২ সপ্তাহ অথবা ১৪ দিনের শিক্ষা শিবিরের জন্যও উপযোগী বিবেচিত হতে পারে। এমনকি আরও সংক্ষিপ্ত সময় যেমন ৫-৭ দিনের সিলেবাস উদ্ভাবনের জন্য এটা কাজে লাগতে পারে।

প্রত্যেক বাছাইকৃত অংশের জন্য কিছু বড় বড় দিক উল্লেখ করা হয়েছে আপনি যা দিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারেন। কিছু কুরআনী নির্দেশিকা দেয়া হয়েছে যাতে করে আপনি তার আলোকে চিন্তা করতে পারেন। এসব রেফারেন্স আমার নিজস্ব উপলব্ধির ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে, যা কোন ক্রমেই ব্যাপক নয়। আশা করা যায় যে, আপনি নিজেই উদ্যোগ নিতে পারবেন এবং সে সময়ের মধ্যে ঐসবের সাথে আপনার পরিচিতি হয়ে যাবে। দীর্ঘ সিলেবাসটি দেয়া হয়েছে এক বছরের জন্য সাপ্তাহিক পাঠচক্রের উপযোগী করে।

সংক্ষিপ্ত সিলেবাসঃ ১২টি নির্ধারিত অংশ

মাসিক পাঠচক্রের জন্য ১ বছরের কোর্স

(১) সূরা হাজ্জঃ ৭৭-৭৮
চিন্তা করুনঃ বন্দেগী ও আনুগত্যের জীবন জিহাদে পূর্ণতা, শাহাদাতের মিশনে কেন্দ্রীভূত মুসলিম হওয়ার উদ্দেশ্য, নামায, যাকাত ও রোযার উপকরণসমূহ।

(১.১)  রুকু ও সিজদাঃ ইবাদাত ও আনুগত্যের কর্ম নামায, বিশেষভাবে রাত্রীকালীন নামায, মনের অবস্থা, আচরণের অবস্থা, ব্যক্তিগতভাবে ও প্রকাশ্যে- ২: ১২৫, ১৬: ৪৯, ২: ৪৩, ৭৬: ২৬, ৩৯: ৯, ৭৭: ৪৮, ৫ : ৫৫, ৯৬ : ১৯, ৯ : ১১২, ৪৮ : ২৯, ২ : ৫৮।

(১.২) ইবাদাতঃ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হিসেবে, আল্লাহর মূল বাণী, পরিপূর্ণ আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ সমগ্র জীবনের পরিব্যাপ্ত, সকল মিথ্যা আল্লাহ থেকে ফিরে আসা- ৫১: ৫৬, ১৬ : ৩৬, ২১: ২৫, ৪ : ৩৬, ৩৯ : ১১, ৪০: ৬৬, ১২ : ৪০।

(১.৩) কল্যাণঃ অন্তর থেকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে- ৮: ৭০, ২: ২৬৯, ২: ১৮০, ৭৩: ২০, ৯৯ : ৭।

(১.৪) জিহাদঃ এর দাবী – ৪৯ : ১৫, ৮ : ৭৪, ৩: ১৪২, ৯ : ১৯-২২, ৪ : ৯৫-৯৬, ৬১ : ১১, ৯ : ৪১-৪৫, ৯: ২৪।

(১.৫) শাহাদাতের মিলনের জন্য বাছাই হওয়া সম্পর্কে- ২: ১২৮-১২৯, ২ : ১৪৩, ৬: ১৬১-১৬৪, ৩:৬৫-৬৮।

(১.৬) তাওহীদ সম্পর্কে হযরত ইবরাহীমের দৃষ্টান্ত, আনুগত্য, ত্যাগ- ৬ : ৭৯, ৬০: ৪, ২: ১৩১।

(১.৭) দীন- ৫: ৩-৬, ২ : ১৮৫, ৪ : ২৬-২৮।

(১.৮) শাহাদাতের মিশন- ২ : ২১৩, ৩৩: ৪৫, ৫: ৬৭, ৪৮ : ৮, ৩ : ১৮৭, ৪ : ৪১, ২ : ১৫৯-১৬৩, ১৭৪-১৭৬।

(১.৯) নামাযঃ গুরুত্ব, কায়েমের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শর্ত- ২ : ৩, ১৯ : ৫৯, ৭০ : ২৩, ৩৪: ২, ২৩৮: ৪, ১০২:৩, ২: ২৩৯, ২৯ : ৪৫, ৭: ২৯, ২৩ : ২, ৪ : ৪৩, ১৭ : ৭৮, ৪ : ১৪২, ২ : ৩৪, ৭ : ৩১, ৬২ : ৯-১১, ১৯ : ৫৫, ১৭: ১-৭, ২২: ৪১।

(১.১০) যাকাতঃ গুরুত্ব এবং তাৎপর্য- ৪১: ৬-৭, ৯ – ৫, ৩০-৩৯, ৯ : ১০৩।

(১.১১) রোযা- ৩ : ১০১, ৩১ : ২২, ২৬ : ৭৭-৮২।

(২) সূরা আল বাকারাঃ ৪০-৭
চিন্তা করুনঃ হিদায়াতের আশীর্বাদ স্মরণ করুন এবং অন্যান্য, আল্লাহর প্রতি ওয়াদা পূরণ, ঈমানের নবায়ন, আল্লাহর বাণীর বিনিময়ে সামান্য সুবিধা লাভের ব্যবসায়ে সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে ফেলা এবং বিকৃত করা, সত্য গোপন করা, নামায, যাকাত, ইবাদাতে এবং বাইরে সামষ্টিক জীবন, মুনাফিকী এবং দ্বিমুখী নীতি, সবর ও নামায নৈতিক শক্তি হিসেবে।

(২.১) নিয়ামত – হিদায়াতে, প্রকৃতিতে ও ইতিহাসে- ৫ : ৩, ২ : ১৫০, ৫ : ৭, ১৬ : ১৮, ৩ : ১০৩, ৮ : ২৬, ৫ : ২০।

(২.২) ওয়াদা- ৭ : ১১, ৪৮ : ৮-১০, ৭ : ১৭২, ৩৬ : ৬০, ৩৩ : ২১-২৪, ৫ : ১২-১৩, ৩ : ৭৬-৮৬।

(২.৩) আল্লাহর পক্ষ থেকে দরকষাকষি ইহকালে ও পরকালে- ৩ : ১-৩৯, ২৪ : ৫৫, ৫ : ৬৬, ৪ : ৬৬-৯।

(২.৪) ঈমান নবায়নের আহবান- ৪ : ১৩৬-১৩৯, ৫৭ : ৭-১৬, ৪ : ৬০-৬১।

(২.৫) ঈমানের বিনিময়ে দুনিয়াবী লাভ – ৫ : ৪৪, ২ : ১৭৪-১৭৬।

(২.৬) সত্যকে মিথ্যা দিয়ে আচ্ছাদিত করা- ২ : ৭৫, ৭৮, ৭৯, ৪০, ৪১, ৯১, ৯৪, ১০২, ১১১, ১১৩, ৫ : ১৮।

(২.৭) সত্য গোপন- ২ : ১৫৭-১৬৩, ১৭৪-১৮৬।

(২.৮) নামাযের গুরুত্ব, মাসজিদে জামায়াতে নামায হচ্ছে ইসলামী জামায়াতের মূল কথা- ১৮ : ২৮, ৯ : ১৬-১৭, ২৪ : ৩৬, ২ : ১১৪, ৯ : ১০৭-১০৮।

(২.৯) কথায় এবং কাজে অসামঞ্জস্য, বিশেষ করে দাওয়াতী কাজের ক্ষেত্রে- ৬১ : ২-৩, ৬৩ : ১-৪।

(২.১০) আল্লাহর সাথে প্রতিশ্রুতি পালনের মূল অবলম্বন সবর ও নামায- ২ : ১৫৩-১৫৭, ৪১ : ৩৫, ৪৬ : ৩৫, ৭ : ১০৭, ৮ : ৪৩, ৩ : ১২৫, ৮ : ৬৫-৬৬।

(২.১১) আল্লাহর নিকট ফিরে আসার ব্যাপারে সতর্কতা ও নিশ্চয়তা- ৫২ : ৪৮।

(৩) সূরা মুয্যাম্মিলঃ ১-১০ ও ২০
চিন্তা করুনঃ রাত্রির নামাযে কুরআন তিলাওয়াত, যিকর, তাবাত্তুল, তাওয়াক্কুল, সবর, সালাত, যাকাত, ইনফাক, ইস্তিগফার।

(৩.১) কিয়ামুল লাইল- ৩২ : ১৫-১৬, ৩৯ : ৯-২৩, ৫১ : ১৫-১৯, ১৭ : ৭৮-৮২।

(৩.২) তাসবীহ- ২০ : ২৪-৩৩।

(৩.৩) তাযকিয়ার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে যিকর- সর্বাবস্থায়, বিভিন্নভাবে, অন্তরে, ভাষায়, দৈহিকভাবে, কর্মে, দাওয়াতে এবং জিহাদে- ৮৭ : ১৫, ৩ : ১৯১, ১৩ : ২৮, ৩৯ : ২২-২৩, ৬২ : ৯, ২ : ১৫০-১৫৫।

(৩.৪) তাওয়াক্কুলঃ তাৎপর্য ও প্রয়োজনীয়তা- ৮ : ২-৪, ৬৫ : ৩, ১১ : ১২৩, ১২ : ৬৭, ২৫ : ৫৮, ১৪ : ১২।

(৩.৫) ইয়াফুলুনের বিভিন্নরূপ- ৩৪ : ৮, ২১ : ৫, ২৫ : ৪-৫, ৭, ৬৮ : ৮-১৫, ১৭ : ৯০-৩, ১০ : ১৫, ১৭ : ৭৩।

(৩.৬) করযে হাসানা এবং আল্লাহর পথে খরচ- ৫৭ : ১১-১৬, ৯২ : ১৮-২১, ২৩ : ৬০, ২ : ২৬৪-৭৪, ৩ : ৯২, ৪ : ৩৮, ৫৭ : ১০, ৬৩ : ১১, ৩৫ : ২৯।

(৩.৭) ইসতিগফার আল্লাহর বাণীর মূল কেন্দ্রবিন্দু, সতর্কতা, বাছাই, জবাবদিহি, ত্রুটি স্বীকার, প্রত্যাবর্তন, ইহলোক ও পরলোকের পুরস্কার- ৪ : ১১০, ৩ : ১৫-১৭, ৩ : ১৩৩-১৩৬, ৩ : ১৪৬-১৪৮, ৭১ : ৭-১২, ৩৯ : ৫৩, ৬৪ : ১৭।

(৪) সূরা আল হাদীদঃ ১-৭
চিন্তাকরুনঃ প্রত্যেকটি জিনিস আল্লাহর গৌরব ঘোষণা করছে, সমস্ত রাজত্ব তাঁর, তিনি জীবন ও মৃত্যুর মালিক, তাঁর ক্ষমতা সবার উপর, তাঁর জ্ঞান সর্ববিষয়ে, তাঁর সার্বভৌমত্ব ও শাসন সবার উপর, কালের উপর, মানুষের অন্তরে কি আছে তাও তিনি জানেন, এর আলোকে ঈমানের আহবান এবং আল্লাহর পথে খরচ।

(৪.১) আল্লাহর গুণাবলী- ২২ : ১৮, ১৭ : ৪৪, ১০ : ৩১, ৬, ৫৯ : ৬১, ৩ : ১৫৪, ২৮ : ৭০-৭২, ২ : ২৫৫, ৫৯ : ২২-২৪, ৩ : ২৫-২৬।

(৫) সূরা আন নাহলঃ ১-২২
চিন্তা করুনঃ বিশ্বে এবং নিজের মধ্যে তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের প্রমাণ। মানুষ, পৃথিবী, জান্নাত, প্রাণীকূলের সৃষ্টির উদ্দেশ্য, পানি বর্ষণ, ফসল ফলানো, রাত্রি ও দিন, সূর্য, চন্দ্র, তারকা, নানা বর্ণ, সমুদ্রে খাদ্য ও সম্পদ, তারকার মাধ্যমে দিক-নির্দেশিকা।

(৫.১) প্রমাণ, বিভিন্ন অনুচ্ছেদে- ৩০ : ১৭-২৭, ২৭ : ৫৯-৬৮, ১০ : ১-১০, ৩১ : ৬।

(৬) সূরা ইয়াসীনঃ ৫০-৬৫
জীবনের বিভিন্ন স্তরে পথ পরিক্রমা সম্পর্কে চিন্তা করুন। মৃত্যু ও জীবনের শেষ মুহূর্ত, মহাধ্বংস বা কিয়ামতের দিন, আবার জাগ্রত হওয়া, বিচার পুরস্কার ও শাস্তি।

(৬.১) আখিরাত ৫০ : ১৬-৩৫, ৭৫ : ২০-৩০, ১৮ : ৪৭-৯, ২০ : ১০০-১১২, ২২ : ১-৭, ২৩ : ৯৯-১১৮, ৪৩ : ৬৬-৮০, ৪৪ : ৪০-৫৯, ৫১ : ১-২ ৭।

(৭) সূরা আল হাদীদঃ ২০-২৫
চিন্তা করুনঃ বর্তমান জীবনের বাস্তবতা ও প্রকৃতি। আল্লাহ ও রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য শক্তি প্রয়োগ।

(৭.১) বর্তমান ও ভবিষ্যতের জীবন- ৩ : ১৪-১৫, ১০৫, ১০ : ২৪, ১৮ : ৪৫, ৪ : ১৩৪, ১৭ : ১৮-১৯, ৪২ : ১৯-২০।

(৭.২) ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- ৪ : ১৩৫, ৬১ : ৯-১৪।

(৮) সূরা আল আনকাবুতঃ ১-১০
চিন্তা করুনঃ ঈমানের পরীক্ষা ও সাফল্য লাভের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগের অপরিহার্যতা।

(৮.১) দেখুন- ২ : ১৫৫, ২ : ২১৪, ৩ : ১৪০-২, ৩ : ১৭৯, ৪৭ : ২৯-৩১।

(৯) সূরা আল আনফালঃ ৭২-৭৫
ঈমানের সাথে হিজরাত ও জিহাদের গভীর সম্পর্কের কথা চিন্তা করুন। জিহাদের জন্য সামষ্টিকতার অপরিহার্যতা।

(১০) সূরা আত্ তাওবাঃ ১৯-২৪
ভেবে দেখুনঃ আল্লাহর মিশনের পূর্ণতার জন্য সামষ্টিক জীবনের মূলভিত্তি হচ্ছে অনুগত্য ও নবীর ডাকে সাড়া দেয়া।

(১০.১) দেখুন- ৮ : ২০-২৮, ৪৯ : ১-৫, ৫৮ : ১১-১৩, ৯ : ৪২-৫৭, ৯ : ৬২-৬৬, ৯ : ৮১-৮২, ৬২ : ৯-১১।

(১১) সূরা আলে ইমরানঃ ১৯০-২০০
একটি পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপঃ আল্লাহ, আখিরাত, রিসালাত, জান্নাত ও পৃথিবীর সৃষ্টি, দিন-রাত্রির আবর্তনের প্রমাণ, সর্বদা আল্লাহর স্মরণে জীবন পরিচালনা, পরকালই চূড়ান্ত লক্ষ্য আল্লাহর প্রেরিত নবীর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস, সংগ্রাম ও পরীক্ষার তাৎপর্য, সামষ্টিক জীবনের হিদায়াত।

এটা ধরে নেয়া হয়েছে উপরে উল্লিখিত সিলেবাসটি একটি বড় কোর্সের অংশ হিসেবে অধ্যয়ন করা হবে। আর এজন্যই মুসলিম জীবনের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক গুণাবলী সম্পর্কে কোন কিছুই এতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। তা যদি না হয়, তাহলে নিম্নোক্ত অংশটুকু যোগ করে নিলে বেশ উপকারে আসবে। আল ইসরা- ১৭ : ২৩-৩৯, আল ফুরকান- ২৫ : ৬৩-৭৭, লুকামন- ৩১ : ১২-১৯, আল হুজরাত- ৪৯ : ১০-১৪।

দীর্ঘ সিলেবাসঃ ৪০টি অংশ

সাপ্তাহিক পাঠচক্রের জন্য ১ বছরের কোর্স

(১) সূরা আল হাজ্জ : ৭৭-৭৮ : জিহাদ ও বন্দেগীর জীবন, শাহাদাতের মিশন।
(২) সূরা আত্ তাওবা : ১১১-১১২ : ঈমানের অংগীকার বন্দেগীর জীবন।
(৩) সূরা আন্ নিসা : ১৩১-১৩৭ : ন্যায়বিচারের সাক্ষ্য, ঈমানের ডাক।
(৪) সূরা আলে ইমরান : ১০২-১১০ : উম্মাহর উদ্দেশ্য।
(৫) সূরা আল ফাতহ : ৪-১১ : নবীর মিশন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার।
(৬) সূরা আল বাকারা : ৪০-৪৬ : অঙ্গীকার পূরণের আহবান।
(৭) সূরা মুয্যাম্মিল : ১-১০, ২০ : আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা।
(৮) সূরা আল ইসরা : ২৩-৩৯ : ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক নৈতিকতা।
(৯) সূরা আন নাহল : ১-১১ : তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাতের প্রমাণ।
(১০) সূরা আন নাহাল : ১২-২২ : তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাতের প্রমাণ।
(১১) সূরা ইউনুস : ৩১-৬ : তাওহীদের প্রমাণ ও হিদায়াত।
(১২) সূরা হাজ্জ : ১-৭ : আখিরাতের প্রমাণ।
(১৩) সূরা কাহাফ : ১-১৮ : আখিরাত।
(১৪) সূরা আল মুমিনুন : ১১৮ : আখিরাত।
(১৫) সূরা ইয়াসীন : ৫০-৬৫ : আখিরাত।
(১৬) সূরা ক্বাফ : ১৯-৩৫ : আখিরাত।
(১৭) সূরা আয্ যুমার : ৫৩-৫৬ : আখিরাতের প্রস্তুতি।
(১৮) আল হাশর : ১৮-২৪ : আখিরাতের প্রস্তুতি ও আল্লাহর গুণাবলী।
(১৯) আল হাদীদ : ১-৭ : আল্লাহর গুণাবলী, ঈমান এবং আল্লাহর পথে খরচের আহবান।
(২০) আল হাদীদ : ১২-১৭ : ঈমান ও ইনফাক।
(২১) আল হাদীদ : ২০-৫ : বর্তমান জীবন, ইনফাক, ন্যায় প্রতিষ্ঠা।
(২২) সূরা আস্ সাফ : ৯-১৪ : নবীর মিশন, ইমান ও জিহাদের প্রতি আহবান।
(২৩) সূরা আল আনকাবুত : ১-১১ : বিশ্বাসের পরীক্ষা।
(২৪) সূরা আল আনফাল : ৭২-৫ : ঈমান, হিজরাত, জিহাদ, জামায়াত।
(২৫) সূরা আন নিসা : ৯৫-১০০ : হিজরাত ও জিহাদ।
(২৬) সূরা আত্ তাওবা : ১৯-২৪ : জিহাদ, সর্বোচ্চ আমল, সবকিছু ত্যাগ করা।
(২৭) সূরা আত্ তাওবা : ৩৮-৪৫ : জিহাদ।
(২৮) সূরা আলে ইমরান : ১৬৯-৭৫ : আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ।
(২৯) সূরা আল বাকারা : ২৬১-৬ : ইনফাক ফী সাবীল্লিাহ।
(৩০) সূরা আল বাকারা : ২৬৭-৭২ : ইনফাক ফী সাবীলিল্লাহ।
(৩১) সূরা আল আনফাল : ২০-৯ : সামষ্টিক জীবন, আনুগত্য।
(৩২) সূরা আন নিসা : ৬০-৭ : সামষ্টিক জীবন, আনুগত্য।
(৩৩) সূরা আন নূর : ৪৭-৫২, ৬২-৪ : সামষ্টিক জীবন, সাড়া এবং আনুগত্য।
(৩৪) সূরা আল হুজরাত : ১-৯ : সামষ্টিক জীবন, নেতৃত্বের সাথে সম্পর্ক।
(৩৫) সূরা মুজাদালা : ৭-১৩ : সামষ্টিক জীবন, নিয়ম-নীতি ও দায়িত্ব।
(৩৬) সূরা আল হুজরাত : ১০-১৫ : সামষ্টিক জীবন, আন্তঃব্যক্তি সম্পর্ক।
(৩৭) সূরা আল মুরসালাত : ৩০-৬ : দাওয়াত এবং প্রয়োজনীয় গুণাবলী।
(৩৮) সূরা আল বাকারা : ১৫০-৬৩: মিশন এবং এর দায়িত্ব।
(৩৯) সূরা আলে ইমরান : ১৮৫-৯২ : সারমর্ম।
(৪০) সূরা আলে ইমরান : ১৯৩-২০০ : সারমর্ম।

৪০টি অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ সপ্তাহের জন্য। ধরে নেয়া হয়েছে যে, কোন কোন সপ্তাহ বাদ যাবে না। কোন কোন অংশ শেষ করতে একাধিক সপ্তাহ লেগে যাবে।

যাই হোক যদি সহজলভ্য হয়, তাহলে কুরআনের ইতিহাস সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোর দিকে মনোনিবেশ করা যেতে পারে, যা আমি এখানে অন্তর্ভূক্ত করিনি। এ ব্যাপারে প্রতি সপ্তাহের জন্য একজন করে নবী যেমন নূহ (আ) অথবা হূদ (আ) সম্পর্কে অধ্যয়নের জন্য গ্রহণ করা যেতে পারে। সূরা আল আরাফের একেটি অনুচ্ছেদের উপর ভিত্তি করে এ প্রসঙ্গে কুরআনের প্রমাণিত আয়াতসমূহ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

১. আল আরাফঃ ৫৯-৬৪
২. আল আরাফঃ ৬৫-৭২
৩. আল আরাফঃ ৭৩-৯
৪. আল আরাফঃ ৪০-৪
৫. আল আরাফঃ ৪৫-৯৩
৬. আল আরাফঃ ৯৪-১০২
৭. সূরা হূদঃ ১১৬-২৩।

সূত্রঃ বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার কর্তৃক প্রকাশিত “কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা” গ্রন্থ

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmailby feather
on-this-path-let-the-heart-be-your-guide-for-the-body-is-hesitant-and-full-of-fear

আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার পথে বাধাসমূহ (পর্ব-২)

খুররম জাহ্ মুরাদ | জুলাই ১২, ২০১৪
Download PDF

প্রথম পর্বঃ  আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার পথে বাধাসমূহ 

ঘ. অনিয়ন্ত্রিত রাগ

চতুর্থ যে বদগুণ মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয় তা হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত রাগ। যখনই আপনি আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবেন আপনি দেখবেন আপনার জীবন আনন্দময় ও সহজ হয়ে গিয়েছে। আল্লাহর পথে কাজ করাই আপনার জন্য আনন্দের বিষয় মনে হবে। দেখবেন ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অথবা সংগঠনের সদস্যদের মধ্যকার বিরোধগুলো অতি সহজেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সামাজিক এবং সাংগঠনিক জীবনে যেসব ব্যক্তিগত অমিল ও সংঘাত স্থায়ী হয় তা আসলে এজন্য যে আমরা পরিপূর্ণ ভাবে আল্লাহর পথে আন্তরিক হতে পারিনি।

যদি আপনি শুধুমাত্র আল্লাহরই তুষ্টির জন্য সবকিছু করতে থাকেন তবে কারো পক্ষ থেকে অবমাননা বা উপেক্ষার জবাবে আপনার রাগ করবার প্রয়োজন হবে না। কারণ সেই ব্যক্তি তার কাজ দিয়ে আপনার কোন ক্ষতি করছে না। কেবলমাত্র আল্লাহর অসন্তষ্টিই মুমিনকে শংকিত করবে। মনে রাখবেন আল্লাহ বলেছেন- “কারো প্রতি শত্রুতা তোমাদের যেন এত উত্তেজিত করে না দেয় যে তার ফলে তোমরা বেইনসাফী করবে; সর্বদা ইনসাফ কর।” (আল-কুরআন ৫:৮)

আপনি কেন রাগ করবেন? একটি ইসলামী সংগঠনে যেখানে সকল ভাই-বোনকে একসাথে আল্লাহর পথে হাতে হাত রেখে চলতে হয় সেখানে অনিয়ন্ত্রিত রাগ বা অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা  এবং পারস্পরিক বিবাদ ইসলামী জামায়াতকে সংকটাপন্ন করে। মনে রাখবেন আমরা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জনের জন্য কাজ করছি। সেখানে আপনার সকল ভাল আমলকে গর্ব-অহংকার দিয়ে ধ্বংস করবেন না অথবা আপনার নফসকে নিছক ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ বা শুধু নিজের লাভের লক্ষ্যে নিয়োজিত করবেন না। আপনার রাগকে নিয়ন্ত্রিত করবার পন্থা উদ্ভাবন করুন।

রাসূল (সাঃ) উপদেশ দিয়েছেন, “যদি তোমাদের কারো দাঁড়ানো অবস্থায় রাগ উঠে তবে যেন সে বসে পড়ে; যদি এতেও রাগ দূর না হয় তবে যেন সে শুয়ে পড়ে।” (আহম্মদ, তিরমিযি)

আমাদের হৃদয়কে সকল নেতিবাচক আচরণ থেকে মুক্ত করতে রাসূল (সাঃ) আমাদের আরও কিছু দোয়া শিখিয়েছেন, “হে আল্লাহ আমার হৃদয়কে শঠতা থেকে মুক্ত করে দাও এবং আমার কাজকে সকল ভান (লোক-দেখানো) থেকে মুক্ত করে দাও।” (বুখারী)

“হে আল্লাহ আমার মধ্যে তোমার প্রতি ভালবাসাকে চিরস্থায়ী করে দাও। এমন ভালবাসা পয়দা করে দাও যেভাবে তোমার প্রিয় মানুষ তোমাকে ভালবাসে। এমন ভালবাসা যা আমাকে তোমার নিকটতর করে দেয়। আমার প্রতি তোমার ভালবাসাকে (তীব্র গরমে) শীতল পানির চাইতে প্রিয়তর করে দাও।”(বুখারী)

এধরণের আরও অনেক দোয়া রাসূল (সাঃ) শিখিয়েছেন। এসব দোয়া ও ইবাদত হচ্ছে আত্মার খোরাক, ক্বলব এর পুষ্টিদাতা, এবং জীবনে সফল হবার পাথেয়। জীবনের সকল তৎপরতায় এসব দোয়া উচ্চারণ করুন; পড়াশুনার সময়, কাজের সময়, সন্তানকে শিক্ষা প্রদানের সময়।

মনে রাখবেন যদি আমরা নিছক দুনিয়াবী স্বার্থপ্রণোদিত হয়েই কাজ করি তবে আত্মা তার খোরাক বঞ্চিত হবে, আমাদের সব ভাল আমল হারিয়ে যাবে। কুরআনে বলা হয়েছে, “যেসব লোক নিজেদের খোদার সাথে কুফরী করেছে তাদের কাজের দৃষ্টান্ত সেই ভস্মের মত যাকে এক  ঝড়ো হাওয়া উড়িয়ে দিয়েছে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের কোন ফলই পাবে না। এটাই প্রথম পর্যায়ের পথভ্রষ্টতা।”(আল-কুরআন ১৪:১৮)

ঙ. জিহবার অপব্যবহার

পঞ্চম ভয়াবহ বদঅভ্যাস হচ্ছে জিহবার অপব্যবহার। জিহবার ব্যবহার এর বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এর অপব্যবহার দোজখের আগুনকে দ্রুত নিকটতর করে। মিথ্যা, অশ্লীল, নোংরা কথা, গীবত এবং কটুভাষণ যেন আমাদের জিহবা থেকে নির্গত না হয়। অন্যদের বিষয়ে বলার সময় আমরা যেন সবোর্চ্চ সতর্কতা অবলম্বন করি। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের কেউ আমাকে অন্যের বিষয়ে কিছু বলা থেকে বিরত থাকো কারণ আমি তোমাদের প্রত্যেককে পরিস্কার হৃদয় বিশিষ্ট দেখতে চাই।” (আবু দাউদ)

জিহবাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবার সহজতম উপায় হচ্ছে পারস্পরিক কথোপকথনের সময়েও মনে আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত রাখা। এ বিষয়ে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “আল্লাহর জিকির ছাড়া দীর্ঘ সময় কথা বলো না, কারণ দীর্ঘসময় আল্লাহর স্মরণ বিহীন কথাবার্তা হৃদয়কে কঠোর করে দেয়, আর যার হৃদয় কঠোর সে আল্লাহর কাছ থেকে সবচেয়ে দূরের মানুষ।” (তিরমিযি)

চ. যৌন লালসা

আল্লাহর কাছের মানুষ হবার পথে ষষ্ঠ এবং সর্বশেষ বাধা হচ্ছে লালসাপূর্ণ যৌনাকাঙ্খা। আল্লাহ আমাদের যেসব শক্তিশালী তাড়না দিয়ে তৈরী করেছেন যৌনতা তার অন্যতম। পবিত্র কেুরআনে আল্লাতায়ালা সেইসব মানুষের প্রশংসা করেছেন যারা তাদের যৌনাঙ্গকে হেফাজতে রাখে ।(আল-কুরআন ২৪:৩০-৩১)

প্রচন্ড লোভের মুখেও মুমিন বান্দারা তাদের যৌনাকাঙ্খাকে নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রেখে তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করতে সমর্থ হয়।

মানুষের যৌনাঙ্গের অপব্যবহার ব্যাভিচার বা জেনার দিকে চালিত করে যাকে কুরআনে মহাপাপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে “হে ঈমানদারগণ তোমরা জেনার নিকটবর্তী হয়ো না, এটা এক বিরাট অসাধুতা এবং শয়তানী পন্থা।” (আল-কুরআন ১৭:৩২)

এই আয়াতে অবৈধ যৌনাকাঙ্খা জাগ্রত হয় তথা নারী পুরুষের মাঝে আপত্তিকর সম্পর্ক সৃষ্টি হয় এমন সব ক্ষেত্রকে এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত উপদেশ দেয়া হয়েছেঃ

(১) সামর্থ থাকলে আমাদের বিয়ে করা উচিত। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “হে যুবকগণ! তোমাদের মাঝে যারা স্ত্রীর ভরণপোষণে সক্ষম তাদের বিয়ে করা উচিত। কারণ এটা তোমাদের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করবে এবং অন্য স্ত্রী লোকদের দিকে চাহনি থেকে তোমাদের মুক্ত রাখবে।” (বুখারী) যদি আপনার বিয়ের আর্থিক সঙ্গতি না থাকে তবে আপনার নফল রোযা রাখা উত্তম কারণ এটা আপনার যৌনাকাঙ্খাকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করবে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “হে যুবকগণ তোমাদের বিয়ে করা উচিত। যারা বিয়ে করতে (আর্থিকভাবে) অক্ষম তাদের রোযা রাখা উচিত কারণ রোযা যৌনকাঙ্খা কমায়।” (বুখারী)

(২) আমাদের শরীরের সকল অংশকে (শুধুমাত্র লজ্জাস্থানকে নয়) জেনার নিকটবর্তী হওয়া থেকে দূরে রাখতে হবে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “আদম সন্তানের প্রত্যেক অঙ্গেরই যেনা হতে পারে। চোখ এর জেনা হতে পারে লালসার দৃষ্টির মাধ্যমে। হাতের জেনা হতে পারে স্পর্শের মাধ্যমে। পায়ের জেনা হতে পারে অনৈতিক কাজের স্থানে গমনের মাধ্যমে। মুখের জেনা হতে পারে চুম্বনের মাধ্যমে। হৃদয়ের জেনা হতে পারে কুচিন্তার মাধ্যমে যা যৌন অঙ্গের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে।” (বুখারী, মুসলিম) এজন্য রাসূল (সাঃ) সব সময় শয়তানের কবল থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন।”(আবু দাউদ)

(৩) বিপরীত লিঙ্গের মানুষের দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকানো বর্জন করতে হবে। রাসূল (সাঃ) কামনার দৃষ্টিতে তাকানোকে চোখের জেনা বলেছেন, ‘চোখেরও জেনা হতে পারে এবং তা হচ্ছে লালসার (কামনার) দৃষ্টি।(বুখারী) তিনি আরও বলেছেন, লালসার দৃষ্টি হচ্ছে শয়তানের তরফ থেকে আসা এক বিষাক্ত তীর; যে এটা থেকে আল্লাহর ভয়ে নিজেকে বিরত রাখবে তার ঈমান বৃদ্ধি পাবে; এর ফলে সে অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করবে।(মুসনাদ ইবনে হাম্বল)

(৪)অন্যের ‘আওরা’ বা গোপন অঙ্গের দিকে তাকানো পরিহার করতে হবে। রাসূল (সাঃ) অন্যের গোপন অঙ্গের দিকে তাকাতে বারণ করেছেন। “একজন পুরুষ অপর পুরুষের গোপন অঙ্গের দিকে তাকাবে না, কোন নারী অপর নারীর গোপন অঙ্গের দিকে তাকাবে না, এক চাদর-এর নীচে দুজন পুরুষ ঘুমানো ঠিক নয় এবং এক চাদরের নীচে দুজন নারীও ঘুমানো ঠিক নয়।” (মুসলিম)

(৫) আমাদের ‘খালওয়া’ আইন মেনে চলা উচিৎ।  খালওয়া হচ্ছে এক ঘরে নারী-পুরুষের এমন অবস্থান যেখানে তৃতীয় কোন ব্যক্তি নেই এবং তৃতীয় কোন ব্যক্তি আসবার সম্ভাবনা নেই। এ ধরণের পরিবেশ মানুষের অসৎ চিন্তা বাস্তবায়নে সহায়ক হয়। ইসলাম মাহরাম আত্মীয়তার বাইরের নারী পুরুষের ‘খালওয়া’ নিষেধ করেছে। এর মানে এই নয় যে ইসলাম আমাদের উপর আস্থা কম রাখছে; এর মানে এই যে কোন শয়তানী প্ররোচনার মুখোমুখী হওয়া থেকে আমাদের মুক্ত রাখা। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘যারাই আল্লাহ এবং হাশরের বিশ্বাসী তারা যেন কোন (গায়রে মাহরাম) মহিলার সাথে একাকী নিভৃতে (তার মাহরাম আত্মীয় বা তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়া) না বসে, তা না হলে তাদের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে শয়তান উপস্থিত হবে।” (আহমাদ)

সূত্রঃ বিআইআইটি (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থ্যট) কর্তৃক প্রকাশিত “সুবহে সাদিক” গ্রন্থ

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmailby feather
on-this-path-let-the-heart-be-your-guide-for-the-body-is-hesitant-and-full-of-fear

আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার পথে বাধাসমূহ (পর্ব-১)

খুররম জাহ্ মুরাদ | জুলাই ১২, ২০১৪
Download PDF

মানব চরিত্রের কতগুলো মন্দ বৈশিষ্ট্য আছে যা থেকে মুক্ত থাকতে আপনাকে সদা সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। কারণ ঐসব দোষ মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এসব দোষসমূহ হচ্ছে যথাঃ

ক. অহংকার

আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে অন্যতম বড় বাধা হচ্ছে অহংকার। এটা হচ্ছে বিনয় এবং নম্রতার বিপরীত এক চরিত্র ধ্বংসকারী বৈশিষ্ট্য। তাযকিয়ার মাধ্যমে আমরা তিলে তিলে চরিত্র গঠনের যে ভিত্তি রচনা করি অহংকার নিমিষে তা ধ্বংস করে দেয়। হাদীসে বলা হয়েছে,‌‌‌‍ “যার অন্তরে তিল পরিমাণ অহংকারও আছে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে না।”

এই হাদীস শুনে একজন সাহাবী রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করল, “হে রাসূল! যদি কেউ উত্তম পোষাক পড়তে এবং সুন্দর জুতা পায়ে দিতে পছন্দ করে?” উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন, “আল্লাহ নিজে সুন্দর তাই তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। অহংকার হচ্ছে সত্যকে অস্বীকার করা আর অপরজনকে খাটো করা এবং অবজ্ঞা করা।” (মুসলিম)

যখনই আপনার মনে হবে যে আপনি বড় কিছু হয়েছেন, মনে করবেন যে তখনই আপনার আধ্যাত্মিক মৃত্যু হয়েছে। কাজেই আপনার সকল সৎ এবং উত্তম প্রচেষ্টার সফল সমাপ্তি তখনই হবে যদি আপনি বিনয়ী হতে পারেন। সবসময় মনে রাখবেন যা কিছু আপনি অর্জন করেছেন সবই আল্লাহর দান, কোনটাই নিছক আপনার চেষ্টায় অর্জিত নয়।

দ্বিতীয়তঃ মনে রাখবেন আপনার জন্য আদর্শ হচ্ছে রাসূল (সাঃ) এর জীবন অনুসরণ। তাঁর জীবনেই রয়েছে অনুকরণীয় আদর্শ। “এতে কোন সন্দেহ নেই যে আপনি নৈতিকতার অতি উচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত।” (আল-কুরআন ৬৮:৪) যেহেতু আমাদের অনুকরণীয় আদর্শ এত উঁচু মানের ও উত্তম সেহেতু তাঁর অনুসরণে আমাদের সারা জীবনই নৈতিক মান উন্নত করতে হবে। যদি কারো অনুকরণীয় আদর্শ এমন হয় যা সহজেই অর্জন করা যায় তবে শীঘ্রই তার মধ্যে এই তৃপ্তি  এসে যায় যে সে যথেষ্ট ভাল মান অর্জন করে ফেলেছে আর এই তুষ্টি তার আরও ভাল হবার চেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করে। যেহেতু আমাদের মুসলমানদের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত জীবনের আদর্শ অনেক উচ্চমানের সেহেতু আমাদের জীবনভর নিজেদের আরও  ভাল করার চেষ্টায় নিয়োজিত থাকতে হবে। এই জীবনভর উত্তম হবার চেষ্টা আমাদের মধ্যে আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটাবে। যদি এই অব্যাহত প্রচেষ্টায় কোন পর্যায়ে আমাদের মাঝে গৌরব বা অহংবোধের উপক্রম হয় তবে বুঝতে হবে এটা  শয়তানের পক্ষ থেকে এসেছে। যেই শয়তান আমাদের জ্ঞান ও আমল এর পরীক্ষা নিতে চায়।

আপনার তিল তিল করে অর্জন করা সকল কামেলিয়াত মুহূর্তের মাঝে ধ্বংস করে দিতে পারে এই অহংকার। কাজেই নিজেকে এই অহংকার থেকে বাঁচান। মনে রাখবেন এই গর্ব অহংকার অনেক সময় অত্যন্ত আকর্ষণীয় উপায়ে, মনের অনেক বেখেয়ালের বশে এসে যেতে পারে। অতএব সতর্ক থাকুন!

একটি হাদীসে কুদসীতে রাসূল (সাঃ) একজন বিনয়ী মুমিনের যার  হৃদয় সকল গর্ব-অহংকার মুক্ত এবং পবিত্র (খালিস) তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন “আমার বান্দাদের মধ্যে সেই আমার বেশী প্রিয় যে জীবিকার পেছনে ন্যুনতম সময় দেয় আর আল্লাহর স্মরণে বেশী সময় দেয়; যে তার রবের ইবাদতে একনিষ্ঠ এবং তাঁর প্রকৃত অনুগত; যে জনগণের মাঝে কম পরিচিত (প্রচার বিমুখ); যার জীবিকা মাত্র চলার জন্য যথেষ্ট এবং এতেই সে সন্তষ্ট। তার মৃত্যু তাড়াতাড়ি আসবে, তাঁর অন্তিম যাত্রায় কম মানুষ থাকবে এবং তার রেখে যাওয়া সম্পদ হবে নগন্য।” (তিরমিযি)

কাজেই আপনি এভাবে আল্লাহর পথে কাজ করায় রত থাকুন। আমাদের রব  তাঁর পথে কাজের কথা স্মরণ করাবার জন্য টিভি পর্দায় উপস্থিত হবেন না। হতে পারে তাঁর পথে চলার জন্য পত্রিকায় সম্পাদকীয় লিখা হবে না। তিনি আকর্ষণীয় বক্তৃতার মাধ্যমে সমাবেশের শ্রোতাদের আকর্ষণ করবেন না। কিন্তু তারপরও একজন মুমিন মুহুর্তের জন্য তাঁর স্মরণ বিস্মৃত হবেন না। বিপদ, আপদ, পরীক্ষা এমনকি পরাজয়ের মুখেও মুমিন খোদাবিমুখ হবে না। সে কখনও তার সাফল্য বা বিজয়ের সম্ভাবনার হিসাব করবে না বরং সে সাফল্যের একটা মাত্র উপায়ই জানে তা হচ্ছে আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব পালন। এটা সে তার সকল সাধ্য নিয়োজিত করে পালন করে। এমন মুমিনই ইসলামী আন্দোলনের অকাট্য শক্তি, উম্মাহর মেরুদন্ড স্বরুপ।

খ. শঠতা

একজন ঈমানদারের সকল নেক আমল নষ্ট করে দেয় এমন আরেকটি বদগুণ হচ্ছে নিফাক। নিফাক মানে শঠতা বা প্রদর্শন এবং এমন ভাল বৈশিষ্ট্যের অভিনয় যা আসলে নিজের মধ্যে নেই। রাসূল (সাঃ) এমন বৈশিষ্ট্যের নিন্দা করেছেন এভাবে “যে অন্যকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে সে একজন মূর্তিপূজারীর সমতূল্য কারণ সে অন্যকে আল্লাহর সমপর্যায়ের মনে করেছে; তেমনি যে অন্যদের দেখানোর জন্য দান করছে সেও আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করছে।” (আহমদ) তিনি আরও  বলেছেন, “একজন মুনাফিকের তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে, যদিও সে নামাজ পড়ে, রোযা রাখে এবং দাবী করে সে মুসলিম সে বৈশিষ্ট্য তিনটি হচ্ছে, প্রথমত- সে মিথ্যা কথা বলে, দ্বিতীয়ত- সে ওয়াদা ভঙ্গ করে, তৃতীয়ত- সে বিশ্বাস ভঙ্গ করে।” (বুখারী, মুসলিম)

শঠতা হচ্ছে এমন খারাপ বৈশিষ্ট্য যা আপনার ঈমানকে আড়াল করে। এটা এমনভাবে আপনার চরিত্র ধ্বংস করে যেমন উইপোকা কাপড়কে খেয়ে ফেলে। নিফাক হচ্ছে ইখলাস এর বিপরীত। ইখলাস হচ্ছে  ভাল কাজ ও ঈমানের অত্যাবশ্যকীয় পূর্বশর্ত। কাজেই আপনি পুনঃপুন আপনার কাজ ও নিয়াতকে ইখলাস ও নিফাক এর সাপেক্ষে যাচাই ও বিচার করবেন।

গ. হতাশাবাদ

আল্লাহর নিকটবর্তী হবার পথে আরেকটি বাধা হচ্ছে নিরাশা বা হতাশাবাদ। অবশ্যই নিরাশা বা হতাশা থেকে মুক্ত থাকতে সচেষ্ট হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর রহমতের উপর নিরাশ হওয়াকে কুফরী কলেছেন। তিনি বলেছেন, “সে ধ্বংস হবে যে আল্লাহর রহমতের বিষয়ে নিরাশ হয়।” (আল-কুরআন ১৫:৫৬)  আপনি যদি শতবারও চেষ্টা করে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হন তবু নিশ্চিত থাকুন যে প্রতিবারের চেষ্টার জন্য আপনি অপরিমিত পূণ্য লাভ করছেন। এভাবে ভাবলে মুমিনদের মনে কখনও পরাজিত বা হতাশাভাব আসবে না। আল্লাহ যা ওয়াদা করেছেন তা অবশ্যই সত্য এবং তা আসবেই, “আর যারা আমার চেস্টা সাধনা করবে তাদের আমি অবশ্যই পথ দেখাবো। আর আল্লাহ নিশ্চিতই সৎকর্মশীলদের সাথে রয়েছেন।” (আল-কুরআন ২৯:৬৯) অতএব সর্বদা আশাবাদী ও ইতিবাচক মনোভাব রাখুন। আজীবন আশাবাদী থাকুন।

সূত্রঃ বিআইআইটি (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থ্যট) কর্তৃক প্রকাশিত “সুবহে সাদিক” গ্রন্থ

দিত্বীয় পর্বঃ আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার পথে বাধাসমূহ 

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmailby feather